The Bengali psyche – a letter from a teacher

টুম্পা বরকন্দাজ

একটি চিঠিঃ বিষয় বাঙালি

রিজওয়ানুর, ভেনিজুয়েলার পাশে দাঁড়ানো কলকাতা আন্না-র আন্দোলনের পাশে না দাঁড়ালেও ছোট শহরে বা মফস্বলে প্রচুর মানুষ আন্নার আন্দোলন কে সমর্থন করেছে বা করে চলেছে, যা সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত হয়নি। হয়তো সচেতন ভাবে। …বাংলার অধিকাংশ সংবাদমাধ্যম সরকারের বড় শরিকের প্রতি অসামান্য সহানুভুতি প্রদর্শন করেছেন। স্বভাবতই আন্নার আন্দোলনের নেতিবাচক প্রচারেই তারা বেশি আগ্রহী। হয়তো বড় শরিককে বিপদে না ফেলার বাধ্যতা তাদের ছিল।

যখন সারা ভারত এত বড় একটা আন্দোলনে উত্তাল, তখন কলকাতার সংবাদমাধ্যম সুশান্ত ঘোষ কে নিয়ে এতই মত্ত যে, তিনি প্রায় নায়ক হয়ে উঠেছেন। বাংলার বুদ্ধিজীবীরাও (যাদের বাইট নেওয়া হয়েছে) আন্দোলনের পদ্ধতি নিয়ে বিরাট চিন্তা দেখিয়েছেন। আশ্চর্য্য লাগে এঁরা সরকার বা আন্নারা যে প্রস্তাবগুলি লোকপালে রাখতে চেয়েছেন, তা নিয়ে একেবারেই আলোচনায় উতসাহী নন।

গত প্রায় ৪০/৪৫ বছর ধরে সাংসদরা এই আইনটাকে আটকে রেখেছেন। এর পরও যদি লক্ষ লক্ষ জনতা পথে নেমে দাবি জানায়, তা নাকি অ-গণতান্ত্রিক আর ব্ল্যাকমেলিং।

আসলে বাঙ্গালি বুদ্ধিজীবীদের এমনতরো আচরণের পেছনে তাঁদের মানসিক গড়ন কাজ করে। এঁরা মনে করেন যে, এঁরা কারো চেয়ে কম বিশিষ্ট নন।(আন্না’দের চেয়ে তো ননই)। সুতরাং কোন নির্দিষ্ট একজনের নেতৃত্বকে মেনে নিয়ে পথে নামা, ‘আমরা সবাই রাজা’-র দেশ কলকাতায় আর হয়ে উঠল না।

ভাগ্যিস, অন্য রাজ্যের মানুষরা কম ‘চিন্তাশীল’, কম ‘প্রখর রাজনৈতিক চেতনাসম্পন্ন’, নতুবা আগামী ১০০ বছরেও লোকপাল আইন হতনা। বাঙ্গালি যদি একটু কম চিন্তাশীল হত, তবে বাংলার রাজনীতি, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা প্রভৃতিরও এত অবনমন হতনা।

এ রাজ্যে বড় বড় দুর্নীতি হয়নি বটে, কিন্তু ছোট দুর্নীতি এতটাই প্রসারিত, যে দুর্নীতিটাই এখানে নীতি হয়ে উঠেছে। এলিট সমাজের প্রতি প্রসন্ন এক নেতা বলেছেন ‘ওরা কি রামমোহন-বিদ্যাসাগর নাকি?’ মজার কথা হল, রামমোহন বা বিদ্যাসাগরকেও সমকালে এই ধরণের কথা শুনতে হয়েছে। সমাজচ্যুত হওয়া, ঢিল খাওয়া ইত্যাদির পর আজ তাঁরা মণীষী। একই ভাবে ভবিষ্যত আন্নাকে মনে রাখবে, ওই কটাক্ষ করা নেতাদের নয়।

একটা মহল থেকে বার বার বলা হয়েছে যে, একটা লোকপাল আইন করলেই কি দুর্নীতি শেষ হয়ে যাবে? এক শীর্ষ লেখক বললেন আন্নার আন্দোলন ব্যর্থ আন্দোলন, দুর্নীতি-টুর্নীতি বন্ধ করা যাবে না। আরে বাবা, ভারতের কেউই দাবি করেননি যে এই আইন পাশ হলেই দুর্নীতি চিরতরে শেষ হবে। এই আইনে যে সংস্থান আছে, তাতে কিছুটাতো নিয়ন্ত্রণ করা যাবে! বলা হচ্ছে লোকপালও দুর্নীতিগ্রস্ত হতে পারে। অবশ্যই, কিন্তু তা দেখার জন্যে তো সরকার, সংসদের মত শক্তিশালী স্তম্ভ রয়েছে।(এখনও পর্যন্ত প্রশাসন ও সংসদের চেয়ে গণতন্ত্রের অপর স্তম্ভ বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা বেশি। লোকপালকে কিছুটা এই গোত্রেরই তৈরি করার দাবী উঠেছে)।

আমাদের দেশে এখনও বহু মানুষ আছেন যাঁরা বিচক্ষণ অথচ সৎ, অর্থলোভী নন, বিলাসী নন। এই আইনের চাপে রাজনৈতিক দলগুলোতে যদি তঁরা আধিপত্য লাভ করেন, তবে তাঁরা সমাজের নিচু তলাকেও দুর্নীতিমুক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যেতে পারবেন—এ আশা আমরা রাখতেই পারি।

[মোমিনপুর-সগুনা হাই-ইস্কুলের এক শিক্ষিকা টুম্পা এই নিদারুণ পত্রাঘাতটি করেছেন

সৌজন্যে একদিন]

Share

Leave a Reply

 

 

 

You can use these HTML tags

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>