Should we celebrate Women’s Day?

সুমিত্রা পদ্মনাভন

Taslima Nasreen

It feels bad that we have to celebrate Women’s day. This itself puts us on an unequal footing. If there’s no such special day to celebrate manhood, then why do we need a Women’s Day? It is almost that women have just this one day and the rest belong to men. But even in that one day millions get raped, tortured, murdered, trafficked and beaten to death. Oppression rules supreme and many don’t even know that March 8 is Women’s Day. Still such a day is good for the awareness that women are special. I would say that let there be a Women’s Day – even though we see gender discrimination everywhere.

[আলাদা করে নারী দিবস পালন করতে হয় ভেবে খারাপ লাগে। এটাই আমাদেরকে অসাম্যের দিকে ঠেলে দেয়। যদি পুরুষ দিবস বলে আলাদা কোন দিন না থাকে, তাহলে নারী দিবসের দরকার কেন? মনে হয় যেন একদিন নারীদের আর বাকি ৩৬৪ দিন পুরুষদের। আর সেই দিনও কোন ব্যতিক্রম নয়—সেদিনও হাজার হাজার ধর্ষণ, অত্যাচার, খুন, পাচার, পিটিয়ে মারা ঘটে যায়। দমন চলতেই থাকে, আর বেশির ভাগ নারী জানেও না যে ৮ মার্চ নারী দিবস। তবু বলব এরকম একটা দিন থাকা জরুরি যেদিন সাধারণের চেতনায় ধাক্কা দিয়ে জানানো যাবে যে নারী বিশেষ গুরুত্ব দাবী করে। তাই আমি বলব যে চতুর্দিকে বৈষম্য চলতে থাকলেও এরকম একটা আলাদা নারী দিবস থাকুক।

Shabana Azmi

International Women’s Day is a celebration of women who have battled patriarchal mindsets and made it possible for women all over the world to negotiate more space for themselves. My message to women on this day would be that women’s rights are human rights. We must demand equal opportunity as a “right” and not as a favour. Women today are in a very strong position and we must work as a collective to help all those who are disadvantaged in society.

[আন্তর্জাতিক নারী দিবস হচ্ছে সেইসব বিশেষ নারীদের বিজয়দিবস পালন যারা সমস্ত রকম সামাজিক প্রতিকুল পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার বিরুদ্ধে লড়াই করে নিজেদের জন্যে জায়গা করে নিয়েছে।নারীদের জন্যে আমার এই দিনে বিশেষ বার্তা হচ্ছে যে সমস্ত নারীর অধিকারই হচ্ছে মূলত মানবাধিকার। আমরা দাবী করব সমান সুযোগ—অধিকার হিসাবেই, দয়া হিসাবে নয়। আজকের নারী খুব শক্তিশালী অবস্থায় পৌঁছে গেছে; আর আমরা একসঙ্গে কাজ করব সেইসব নারীদের জন্যে যারা এখনোও সামাজিক ভাবে প্রতিকুল অবস্থায় রয়েছে। ----------শাবানা আজমি ]

*******************

উপরের লেখাদুটি তুলে দেওয়া হল ৮ মার্চের টেলিগ্রাফ কাগজ থেকে। একই দিন সকালে আমাদের দুই বন্ধুর কাছ থেকে পাওয়া দুটি মেসেজ তুলে দেওয়ার লোভ সামলাতে পারছিনা।

পারুল সেনগুপ্ত – পুরুষ দিবস না থাকলে নারী দিবসের সার্থকতা কোথায়? সেই তো আমরাই Discrimination(বৈষম্যমূলক আচরণ)করলাম।

মানসী মল্লিক – পুরুষ বা নারী দিবস নয় পালন হোক মানুষ দিবস। লিঙ্গবৈষম্যের ঊর্ধে উঠে সবাই সবার বন্ধু হোক।

এর সঙ্গে সবাইকে পড়তে অনুরোধ করছি হিউ্ম্যানিস্ট এসোসিয়েশানের বার্ষিক সম্মেলনের প্রতিবেদন টা – আরেকবার। এতে নারীর অধিকার ও এ বিষয়ে সামাজিক কর্তব্যের কথা বিশেষ ভাবে বলা হয়েছে সঞ্জয় কর্মকারের লেখায় ।

আমরা দেখেছি দিল্লীতে ছাত্রী ধর্ষণের পর দিল্লীতে গণ আন্দোলন। আন্দোলন ছড়িয়ে পরে গোটা দেশে। আন্দোলনে চাপে পরে সরকারকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে হয়। কিন্তু, পশ্চিমবঙ্গে ধর্ষণের ঘটনা ঘটলে কোনও প্রতিবাদ করা চলবে না। যা বলার বলবেন মুখ্যমন্ত্রী। কামদুনির ঘটনার প্রতিবাদে  ২ অক্টোবর,২০১৩  আমরা  একটা মৌন মিছিল শুরু করলে মাঝ পথেই আমাদের আটকে দেয় পুলিশ। হ্যাঁ, বাম সরকারের আমলেও ধর্ষণের ঘটনা ঘটত এই সত্যটির সঙ্গে আমরা এক মত হয়েই বলছি, যে সময়েই হোকনা কেন ধর্ষণ নিন্দনীয়, ঘৃণার যোগ্য এবং শাস্তি যোগ্য কাজ। কোনও ভাবেই এই কাজে যুক্তদের আড়াল করা অথবা এমন কোনও বক্তব্য বলা উচিত নয় যাতে ধর্ষক-রা  উৎসাহিত হয়।  মানুষের চিন্তা-ভাবনা গুলিয়ে দিতে এক শ্রেণীর ব্যক্তি অথবা সংগঠন এবং প্রচার মাধ্যমের একটা অংশ সব সময় সক্রিয়। তাই আমরা ধর্ষণের ঘটানার কারণ হিসাবে জানতে পারি, “মেয়েদের পোষাক”(?)। আমরা পশ্চিমবঙ্গে শেষ এক বছরে ঘটে যাওয়া ধর্ষণের ঘটনা গুলির দিকে তাকালে কী আমরা সেই কারণটাই দেখতে পাই? মোটেও না। যেখানে অনেক গুলি ঘটনাই ঘটেছে ৩ থেকে ৫ বছরের শিশু কন্যার সঙ্গে। ঘটেছে গ্রামের গোড়ালি থেকে গলা পর্যন্ত ঢাকা পোষাক পরা মহিলাদের সঙ্গে। এই ঘটনা বন্ধ করতে দরকার রাজনৈতিক দল অথবা রাজনৈতিক স্বার্থের কথা চিন্তা না করে দ্রুত ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করিয়ে দোষীকে কঠোর শাস্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করা। দরকার চিন্তার পরিবর্তন, সমাজ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন। এই বিষয়ে একটি দিশা দেওয়া হয়েছিল ২০১৩ সালের বার্ষিক সম্মেলনের সম্পাদকীয় প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনের একটি অংশ ছিল “বর্তমানে মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে বেশ চাঞ্চল্যকর আলোচনা ও চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে – চারিদিকে দেখতেও শুনতে পাচ্ছি। অনেক কথা অবাক করার মত। আগের চেয়ে মেয়েরা বাইরে বেরোচ্ছে বেশি – পড়া বাচাকরির কারণে। অনেক অ্যাডভেঞ্চার প্রবণও হয়ে উঠছে আজকের কিশোরী-তরুণীরা। তাই তাদেরকিছুটা ঝুঁকি থেকেই যায়। বাড়ির বড়রা সাহায্য করবেন, যেকোনও বিপদে সাপোর্ট করবেন – এটাইকাম্য। কিন্তু তার সঙ্গে এটাও মনে রাখতে হবে যে এক্ষেত্রে ইস্যুটা সামাজিক ন্যায়-অন্যায় এর বিষয়; নারীবনাম পুরুষের রেষারেষি নয়। উগ্রস্বভাব, পুরুষবিদ্বেষী মেয়েরা এখানে বিপদটাকে বাড়িয়ে তুলবেন না।বরং লিঙ্গ-নির্বিশেষে নারী-পুরুষে, মানুষে-মানুষে বন্ধুত্বের সম্পর্ককে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।কারাটে , কুংফু শিখে, নানচাকু নিয়ে আত্মরক্ষার প্রয়োজন হবেনা, যদি এই বন্ধুত্বের সম্পর্ককে প্রাধান্যদেওয়া যায়।
তার জন্যে আমাদের প্রাথমিক সাজেশন সমস্ত স্কুল-কলেজকে কো-এডুকেশান করার দাবি জানানো। এটানিয়ে ডিবেট হতে পারে, প্রশ্ন উঠে আসতে পারে-আসুক। আমরা তৈরী থাকবো উত্তর দেওয়ার জন্যে।আমাদের দাবি আমরা যারা একসঙ্গে কাজ করছি, আমরা যেন আমাদের ছেলে-মেয়েদের কো-এডুকেশানস্কুলে পড়াতে প্রস্তুত থাকি। ছোটবেলা থেকে একসঙ্গে বড় হলে ১০-১২-১৪ বছরে তারা পরস্পরকে আগেমানুষ বলে চিনবে, তার পরে তো নারী বা পুরুষ হয়ে উঠবে। এ বিষয়ে বিতর্ক হোক, চাই। যদি কেউ ভিন্নমত পোষণ করেন -বলুন।
এবারে হিউম্যানিস্টস অ্যাসোসিয়েশন -এর এজেন্ডায় যুক্ত হল এই বিষয়টা। নারী-পুরুষের সামাজিকভেদাভেদ দূর করার লক্ষ্যে সবরকম চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।”

Share

Leave a Reply

 

 

 

You can use these HTML tags

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>