নাগরিক প্রতিবাদ আবার লক্ষ্যভ্রষ্ট হবে না তো ?

শর্মিলা বসু

গান্ধীবাদী অনশন থেকে ইন্টারনেটে প্রতিবাদ –কোনো পথই বাকি রাখেননি ভারতের নাগরিকরা। সনাতন সামাজিক প্রতিবাদ থেকে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির পদ্ধতি –যে যা পেরেছেন তাই ব্যবহার করে ভ্রষ্টাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে ভারতবাসীরা গত কয়েকদিনে সারা পৃথিবীতে ‘খবর’। এর ফলে অনেকের মনেই আশা জেগেছে … কিন্তু এর মধ্যে বাবা রামদেব জাতীয় তামাশা ঢুকে যাওয়ার ফলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যে ভ্রষ্টাচারবিরোধী জনআন্দোলন পুনরায় লাইন-চ্যুত হয়ে যেতে পারে।

*******

আন্না হাজারের প্রতিবাদের স্টাইল হল সনাতন গান্ধীবাদী। তিনি লোকপাল বিল দাবী করে ‘আমরণ অনশন’ ঘোষণা করেন। সরকার তার বিবিধ দাবী নাকি মেনে নিয়েছেন তাই তিনি অনশন ভঙ্গ করেছেন। কিন্তু চটপট বিল পাশ না হলে স্বাধীনতা দিবস থেকে আবার অনশনে বসবেন বলে হুমকি দিয়েছেন। প্রতিবাদের অস্ত্র হিসাবে ‘অনশন’ কিঞ্চিত ভোঁতা হয়ে যেতে পারে। কিন্তু এইভাবে যদি কোনো একটা ‘ডেডলাইন’ সরকারের ওপর চাপানো যায়, তাহলেই দেশের মঙ্গল। কারণ দেশে ভ্রষ্টাচার যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাতে আরো কয়েক দশক অপেক্ষা করার মত সময় ভারতের নেই।(গত চল্লিশ বছর ধরে এই বিলটি ঝুলে আছে)।

*******

এইসব প্রশংসনীয় নাগরিক প্রতিবাদের মধ্যে গোল বাধিয়েছে ভারতের বিরিঞ্চিবাবাদের দল। আন্না হাজারে অনশনে বসেছেন, তাহলে বাবা রামদেব বাদ যাবেন কেন? এই ‘টেলিভিশন যোগী’ টি গোটা বিষয়টিকে যা তামাশায় পর্যিবসিত করেছেন, যে তাতে আসল ভ্রষ্টাচারবিরোধী আন্দোলন আবার লক্ষ্যভ্রষ্ট না হয়ে যায়। তথাকথিত ‘স্বাধীন’ সংবাদমাধ্যমও প্রকৃত সমাজসেবীদের পাত্তা না দিয়ে এই ধরণের বাবাজীদের উদ্ভট উতপাত নিয়ে মেতে উঠেছে। …ধর্মের রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িকতার তিক্ততা ঢুকে পড়েছে।

এই ধরণের বিভ্রান্তি যত বাড়বে, ঘুষখোর রাজনীতিক, সরকারী কর্মী এবং ভ্রষ্টাচারী ব্যবসায়ীদের ততই সুবিধা।

[‘একদিন’ পত্রিকা থেকে অংশবিশেষ তুলে দেওয়া হল, পুরোটা পাবেন ১৩ জুন পৃ-৪ এ। অবশ্যই পড়ুন]

CIVILIAN PROTEST SHOULD NOT GET MISDIRECTED AGAIN!

Anna Hazare’s Gandhian protest had ample support from the civil society—from actual fasting to internet campaign—the civilians left no stone unturned to demand passing of the anti-corruption Lokpal Bill. The bill is pending for the last 40 plus years.

But the birchibabas (fake godmen) of India have posed a real problem – that of confusing and damaging the real issue. The ‘television-yogi’ Ramdev thought if Hazare can fast, why can’t I?

Even the so-called ‘free’ media left the real social workers to dwell on the guru and turned the whole issue into a farce!

If nothing is done by the government, Anna Hazare will start his protest-fast again from the Independence Day, August 15. Will these frequent fasts blunt the edge of this Gandhian method of protest? But there has to be a deadline. India in this present corrupt state cannot afford to wait for another ten years! Further delay and confusion will only help the bribe-taking, corrupt politicians and government officials and the unscrupulous businessmen.

[Partially translated from article by Sharmila Basu in ‘Ekdin’ dtd 13 June, page 4]

Share

Leave a Reply

 

 

 

You can use these HTML tags

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>